বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:৪২:৫৩

রাবি শিবির সভাপতির বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন রাকসু জিএস আম্মার

হ্লাথোয়াইছা চাক, রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:১২
শেয়ার: mail
রাবি শিবির সভাপতির বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন রাকসু জিএস আম্মার

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো দায় নেবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। এর জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “শিবির সুশীলতার সংগঠন হলে তার দায়ই তাদের অনেক মানুষ নেবে না।”

সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, “আমার দায় নেবে না শিবির, এটা রাবি শিবির সভাপতিই বলেছেন। আমি তার আগেই বলি—শিবির আমার দায় নিলেই আমি সেটা মেনে নেব কেন? শিবির সুশীলতার সংগঠন হলে শিবিরের সুশীলতার দায়ই শিবিরের অনেক মানুষ নেবে না। এতকিছু মেনে নিতে চাইলে রাকসুতে শিবিরের প্যানেলে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে জিততে পারতাম।”

তিনি আরও বলেন, “নিজের শিরদাঁড়া উঁচু করে ১৫-২০ জন নিয়ে লড়াই করে বড় বড় রাজনৈতিক দলকে হারিয়ে রাকসুর জিএস হতে পারতাম না। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা অন্তত জানে, আমার বিপরীতে কী পরিমাণ ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে এবং শিবিরের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমার দায় নেওয়া লাগবে না ভাই, আমি আপনাদের দায় নিতেও বলিনি কখনো, প্রশ্নই আসে না।”

দাপ্তরিক খরচের অভিযোগের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “তিনি আমার দাপ্তরিক খরচের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওনার আগে এই ব্যাপারটা নিয়ে একটু পড়াশোনা করা দরকার ছিল। এটার প্রকৃত খাত হলো সংসদের মাসিক ব্যয় নির্বাহের খাত (১২তম অধ্যায়, সাধারণ সম্পাদকের কলামের ৪ নম্বর পয়েন্ট)।”

তিনি উল্লেখ করেন, এর মধ্যে রয়েছে সম্পাদকদের দাপ্তরিক খরচ, ভাউচার সমন্বয়, আপ্যায়ন, এমনকি রাকসু অফিসের প্রিন্টারের কাগজ, চায়ের কেটলি থেকে শুরু করে প্রায় সংসদের সবকিছু—যার খরচ রাকসুর সাধারণ সম্পাদকের বরাদ্দকৃত টাকা থেকেই নির্বাহ করা হয়।

রাকসু জিএস বলেন, “আমি তো এখনো হিসাবই দিইনি। উনি উড়ো খবর পড়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একটি বড় সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তাঁর কাছ থেকে আরও পরিপক্বতা আশা করেছিলাম। আমার কাছে এক টাকারও ভাউচার সংরক্ষিত আছে। অডিট শেষে সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েই আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ। এর মধ্যে ছাত্রদলও নোংরামি করল, আজ ছাত্রশিবিরের সভাপতিও নোংরামি করলেন। আপনাদের হিসাব চাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় এখনো পড়ে আছে ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের যদি উদ্দেশ্য হয় মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো, তাহলে এগুলো চালিয়ে যেতে পারেন। আর যদি সত্যটা পরিষ্কার করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে কেবল দুই মাস অপেক্ষা করুন। এখনো সব হিসাব সম্পন্ন হয়নি।”

সবশেষে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আপনি রাকসুর কিছু সম্পাদকের দায়িত্বশীল, কিন্তু এখনো তাদের সাধারণ সম্পাদক তো আমি। আমি আমার কোনো সম্পাদকের ওপর কোনো ভাউচার চাপিয়ে দেব না। এটা অন্তত রাকসুর মতো জায়গায় সম্ভবও নয়। কোনো সংগঠনে এমন নিয়ম থাকলে থাকতে পারে। যাই হোক, আর কটা দিন ধৈর্য ধরুন! সব হিসাব সামনে আসুক, তারপর যার যা বলার নিশ্চিন্তে বলবেন।”

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

রাবি শিবির সভাপতির বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন রাকসু জিএস আম্মার

বিস্তারিত কমেন্টে