শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়ে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়েছেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান। নিজের সাবেক বিদ্যালয় বাগেরহাটের চিতলমারী সদর ইউনিয়নের আড়ুয়াবর্ণী চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁকে এক বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মো. কামরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মানস কুমার তালুকদার এবং চিতলমারী আলিম মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. ইদ্রিসুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য তাঁর ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম আমি। একসময় বিদ্যালয়টি চিতলমারী উপজেলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ছিল। মডেল স্কুল হিসেবে এর সুনাম ছিল। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমি কাজ করতে চাই।’
বক্তব্যের সময় শৈশবের স্মৃতি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ের ভবন, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিকে পুনরায় একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের জন্য ছয়টি ফ্যান চেয়ে আবেদন জানানো হলে সংসদ সদস্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস হোসাইনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডহক কমিটির সহসভাপতি মো. সাইদুর রহমান (সেলিম খান), শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় সুধীজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে অ্যাডহক কমিটির সহসভাপতি মো. সাইদুর রহমান (সেলিম খান) অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টা ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মানবিক ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি মো. কামরুল ইসলামও এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত। দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের কারণে স্থানীয়দের কাছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
সাবেক শিক্ষার্থীকে বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে কাছে পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্মৃতিচারণ, আন্তরিকতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি।
kalprakash.com/IM