কেবলমাত্র বয়স বাড়ার সঙ্গেই চুল পড়বে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। পূর্ববর্তী প্রজন্ম হয়তো চুল পেকে যাওয়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়াকে বয়সজনিত স্বাভাবিক কারণ বলে বিবেচনা করত। কিন্তু বর্তমান সময়ে ২০-এর কোঠাতেই চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া, ডগা ফেটে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন তরুণ-তরুণীরা। অল্প বয়সেই চুল পড়ার এই সমস্যা এখন তরুণ প্রজন্মের জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে তরুণদের মধ্যে ত্বক ও চুলের যত্নে বাড়তি সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। তবে বাজারচলতি প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:
১. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অতিরিক্ত কাজের চাপ, পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের দুশ্চিন্তা, আর্থিক অস্থিরতা এবং সার্বক্ষণিক অনলাইনে থাকার অভ্যাস শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের প্রভাব সরাসরি পড়ে চুলের ওপর। ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ হলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিসংখ্যক চুলের ফলিকল দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং চুল ঝরতে শুরু করে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র মানসিক চাপের কারণে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম দেখা দিতে পারে। তাই শুধু চুলের যত্ন নয়, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনও জরুরি।
২. শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি: দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট করা চুলের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দিলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩. অতিরিক্ত হিট ও কেমিক্যাল স্টাইলিং: সব ধরনের চুল পড়ার নেপথ্যে শুধু দুর্বল ফলিকল দায়ী নয়, কৃত্রিম রূপচর্চাও একটি বড় কারণ। চুলে অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, ব্লিচ বা রাসায়নিকের ব্যবহার, বারবার রং করা, খুব শক্ত করে চুল বাঁধা, হেয়ার এক্সটেনশন এবং নিয়মিত হেয়ার স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহারের ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে ডগা বা মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে।
৪. অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ: এ ছাড়া মাথার ত্বকের সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বংশগত প্রভাব এবং ত্বকের জন্য অনুপযোগী ভুল প্রসাধনী ও কেমিক্যালের অতিরিক্ত ব্যবহারও অল্প বয়সে চুল পড়ার অন্যতম কারণ।
kalprakash.com/IM