ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর তা মোকাবিলায় নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তেহরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আরেকটি পরাজয়’ ডেকে আনবে।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে অংশীদারত্ব বজায় রাখা যেকোনো দেশও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়বে। দেশটির সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়া ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্ক ছিন্ন না করলে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।
বেসেন্ট বলেন, এটি ইরানের বিরুদ্ধে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’। এর মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো এবং তাদের রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য প্রতিটি উৎস বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তবে ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কতটা মেনে চলবে, তার ওপরই নিষেধাজ্ঞার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।
ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছিল। তবে গত সপ্তাহে ইরানের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটির সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে অর্থমন্ত্রী মাদানিজাদেহ বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ মেনে নেয়নি এবং অন্যান্য দেশও এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ করবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল এবং এখনো প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন পদক্ষেপগুলো সামাল দিতে আমাদের দুই বছরের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে।’
মাদানিজাদেহ আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের নিজস্ব কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে এবং আমরা জানি কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।’
এদিকে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ আখ্যা দিয়ে এর কড়া বিরোধিতা করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়াং বলেন, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল কোনো সমস্যার সমাধান বয়ে আনে না। একই সঙ্গে চীন নিজেদের স্বার্থ ও বাণিজ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর ইরান সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলটির সব তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে।
এ ছাড়া রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আবারও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটিকে ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
kalprakash.com/IM