খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাস না পেরোতেই টানা ভারী বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবারও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় আটশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা প্রায় নয় ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী, জামতলী ও মেরুং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়।
প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের মাঠ। এদিকে দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পানি আরও বৃদ্ধি পেলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতভর বৃষ্টির পর ভোররাতে হঠাৎ করে বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। আঙিনা ও রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন। এছাড়া গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে প্লাবিত হওয়ায় চরম উদ্বেগে দিন কাটছে স্থানীয়দের।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের বেলুন মেকার শুভতি চাকমা জানান, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে টানা প্রায় নয় ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে রাত ১২টার পর থেকে রেকর্ড করা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৩ মিলিমিটার।
এর আগে গত ৮ থেকে ১২ আগস্ট টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালাসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও বন্যার কবলে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ জানান, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM