রাকসু তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পর বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারসহ অন্য সম্পাদকদের ব্যঙ্গ করে ভাউচার মেলা আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানারে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন, কাল্পনিক নানা ধরনের ভাউচার এবং চোর শব্দসংবলিত গান। আলোকসজ্জায় সাজানো প্রতিটি স্টলে রাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের নামে ব্যঙ্গাত্মক ভাউচার প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিপি-জিএসের নাশতার বিল, সেলাই মেশিন ও কর্মশালা, সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন, ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টর ভাড়া, কাওয়ালি দল, বেলচা ক্রয়, নেপাল সফর, রাকসু গেমস এবং ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়ার মতো বিভিন্ন খাতের প্রতীকী ভাউচার।
এছাড়া একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়, যাতে লেখা ছিল—সবার হিসাব মেলে, আমার হিসাব মেলে না। স্টলগুলোতে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক লেখা ও কার্টুনের পাশাপাশি চোর চোর রাকসু ভিপি টাকা চোরসহ বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গান বাজানো হয়।
এ সময় হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফেরদৌস হাসান বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানা গেছে রাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেও ভাউচার জমা দেননি। তাঁদের খরচগুলো প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে জানা যায় ভুয়া ভাউচার তৈরির তোড়জোড় চলছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা এই ব্যঙ্গাত্মক আয়োজন করেছে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাকসুর তহবিল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের জন্য। অর্থ উত্তোলনের পর হিসাব ও ভাউচার জমা না দেওয়া আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিপন্থী। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাকসু তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে রাবি শাখা ছাত্রদল।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়সংক্রান্ত নথি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসু তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা দেওয়া হয়নি। এতে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারের নামে। তিনি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দেননি।
kalprakash.com/IM