ওজন কমানোর আশায় অনেকেই নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করেন। তবে শুধু ব্ল্যাক কফি পান করলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্ল্যাক কফি কিছুটা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই ওজন কমানোর একমাত্র উপায় বা কোনো ‘ম্যাজিক ড্রিংক’ নয়।
ব্ল্যাক কফির প্রধান উপাদান ক্যাফেইন শরীরের বিপাকীয় হার (মেটাবলিক রেট) সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে এবং ক্ষুধা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে এই প্রভাব অত্যন্ত সীমিত এবং সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে? ২০২৪ সালে ‘নিউট্রিয়েন্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৬০ জন অংশগ্রহণকারীকে ১২ সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন তিন কাপ করে কফি পান করেছিলেন। গবেষণায় দেখা যায়, হালকা ও মাঝারি রোস্টের কফি পানকারীদের শরীরের চর্বির পরিমাণ সামান্য কমার প্রবণতা থাকলেও, তাদের মোট ওজনে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। গবেষকদের মতে, কফির সম্ভাব্য প্রভাব শরীরের মোট ওজনের চেয়ে শরীরের গঠনের (বডি কম্পোজিশন) ওপর কিছুটা বেশি প্রতিফলিত হতে পারে।
তবে কয়েক সপ্তাহ কফি পান করলেই দৃশ্যমান ওজন কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মূলত একজন ব্যক্তির ওজন কমার বিষয়টি তার খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুমের মান, বয়স এবং বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।
পেটের চর্বি কি কমায় ব্ল্যাক কফি? সরাসরি নয়। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে শরীরে চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়াকে কিছুটা ত্বরান্বিত করতে পারে, কিন্তু এটি শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশ বা পেটের চর্বিকে লক্ষ্য করে কাজ করে না। পেটের চর্বি কমাতে হলে সামগ্রিকভাবে শরীরের চর্বি কমানোর প্রয়োজন, যার জন্য ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে পান করবেন? ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থাকলে ব্ল্যাক কফিতে অতিরিক্ত চিনি, ক্রিম বা উচ্চ-ক্যালরির কোনো ফ্লেভার যোগ না করাই শ্রেয়। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অস্বস্তি, অনিদ্রা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের সমন্বয়েই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ব্ল্যাক কফি কেবল সেই প্রক্রিয়ায় সামান্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
kalprakash.com/IM