রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় রাকসুর তহবিলের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ ও অনিয়মের তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু রাকসুর ভিপির অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও এর একটি অংশের ব্যয়ে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব অর্থের হিসাব প্রকাশের জোর দাবি জানান।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ভূমিকা নিয়ে মিঠু বলেন, শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের কাছ থেকে আদায় করা ফিসহ রাকসুর অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তার যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন, রাকসুর অর্থ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করাই রাকসু প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। তহবিলের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, রাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখাতে যেখানে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল, সেখানে রাকসু প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের খরচ নিয়েও তিনি অসঙ্গতির অভিযোগ তোলেন।
রাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়। যার মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে বৈধ বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
kalprakash.com/IM