পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে (৪৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে তার প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে পথরোধ করা হয়।
বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত শরিফকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম শরিফ নিজে প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে সামনে থেকে গুলি চালায়। গাড়িটি থেমে গেলে দুর্বৃত্তরা শরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত শরিফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে শরিফের ওপর হামলার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য, হামলার মূল কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধের সূত্রপাত হয়। শরিফ ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। সেখানে অন্য একজন সভাপতি নির্বাচিত হলে শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে সভাপতি পদ কেনাবেচা সংক্রান্ত মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেন।
এছাড়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির ছয়টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জেলা আহ্বায়কের বিরুদ্ধে দলীয় হাইকমান্ডে লিখিত অভিযোগ পাঠান। এর পর থেকেই দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয় বলে একাধিক দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
kalprakash.com/IM