রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দুই শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়ে মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একাংশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে আনাস আহমেদ ও আবুল হাসান নামের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
মামলায় প্রধান আসামি হওয়া ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাকসু ভবনে হামলার দায়ে মামলা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা রাকসু ভবনে প্রবেশই করেননি। বিজয় ২৪ হলে খাওয়ার উদ্দেশ্যে রাকসুর সামনের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, মব জাস্টিস বা গণপিটুনির অপসংস্কৃতিকে বৈধতা দিতে নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। অন্যথায় একইভাবে আরও সাধারণ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজহার অভিযোগ করে বলেন, আনাস আহমেদকে একটি ছবির সূত্র ধরে এবং তাঁকে ভিত্তিহীনভাবে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং মিথ্যা মামলায় ২২ দিন কারাভোগ করেছেন। তিনি তামিরুল মিল্লাতের সাবেক শিক্ষার্থী উল্লেখ করে জানান, তাঁর বা তাঁর পরিবারের কারও ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা কেউ প্রমাণ করতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনাস আহমেদ ও আবুল হাসানকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
kalprakash.com/IM