বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত অডিও রেকর্ডগুলোর কোনো প্রকার ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়াই তাঁকে এ অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে শিক্ষক তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, যৌন হয়রানি এবং নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল খারাপ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষক ও এক ছাত্রীর কথোপকথনের তিনটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি অডিও পর্যালোচনার পর এতে অন্য একজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার আভাস পেয়ে অডিওগুলোর সত্যতা যাচাই ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পৃথক কমিটির মাধ্যমে তদন্তের সুপারিশ করে।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফরেনসিক নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় একটি কমিটি গঠন করে। তবে কমিটি অডিওগুলোর কোনো ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেনি। কমিটির সদস্য ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, অডিওগুলো সিআইডি ও পিবিআইয়ের কাছে পাঠানো হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী না থাকায় তারা ফরেনসিক পরীক্ষা করেনি।
পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অডিওগুলোর ফরেনসিক প্রমাণ ছাড়াই শিক্ষক তানজিউল ইসলামকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী না থাকায় অডিওগুলো পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাই সিন্ডিকেট তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে।’ এদিকে তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে উপাচার্য জানান, যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বাধা নেই, তাই তাঁর অধ্যাপক পদের পদোন্নতি বোর্ড ডাকা হতে পারে।
kalprakash.com/IM