যশোরের মণিরামপুরে সরকারি পাকা সড়ক অবৈধভাবে দখলে নিয়ে মাছের ঘের পরিচালনা করা এবং এতে সড়ক ধ্বসে কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে সমীর হালদার নামে এক স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তারকারী ও সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সমীর হালদার বর্তমানে পটপরিবর্তনের পরও বেপরোয়া আচরণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে মণিরামপুর-অভয়নগর ব্যস্ততম সড়কের হাজিরহাট কদমতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারসংলগ্ন প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ এখন ঘেরের পানির গ্রাসে চলে গেছে। সড়কের পাশে কোনো শক্ত মাটির ভেড়ি বা পাড় না থাকায় পাকা রাস্তাটিকেই ব্যবহার করা হচ্ছে ঘেরের পাড় হিসেবে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডির সড়কটিতে বড় বড় ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে থাকা সারি সারি গাছ ঘেরের পানিতে উপড়ে পড়ে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগকারী সমীর হালদার আওয়ামী লীগ আমলে এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় তিনি রাতারাতি নামে-বেনামে প্রায় দুই হাজার একর ঘেরের মালিক হন। বিগত সরকারের পতনের পর সমীর হালদার কৌশল বদলে বর্তমানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার আশ্রয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন এবং সড়ক ও পরিবেশের ক্ষতি করে ঘের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাস্তার ক্ষতি ও অবৈধ দখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত সমীর হালদার সাংবাদিকদের সাথে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সড়কের ক্ষতিসাধনের বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এখতিয়ারভুক্ত।
সড়কের মাটি ধসে স্থায়ী ক্ষতি ও দুর্ঘটনার বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহি এবং উপজেলা প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান জানান, সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM