ইরানের সাথে সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হওয়া থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তিগত বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান বলে শনিবার (৮ আগস্ট) বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনটি নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পদমর্যাদাধারী কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের সাথে বেশ কয়েকটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু আকাশপথে সামরিক হামলা জোরদার করে ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা বা ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধ প্রসারের নেতিবাচক প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগের বিষয়টি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে অবহিত করেছেন।
সংঘাত শুরুর প্রায় ছয় মাস পর, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করছেন, সেখানে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রধানরা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করছেন যে, এই সংকট নিরসনে কোনো ‘সহজ সামরিক সমাধান’ আমেরিকার হাতে নেই। এছাড়া টানা সামরিক তৎপরতায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য নীতির কড়া সমালোচনা করে জানান, যুদ্ধ, শুল্ক আরোপ এবং অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের পূর্ববর্তী বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শুমার ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠে প্রশ্ন তোলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোন গ্রহে বাস করছেন যে এরকম এক নড়বড়ে পরিস্থিতি সত্ত্বেও বর্তমান অর্থনীতিকে আমেরিকার ইতিহাসের সেরা অর্থনীতি দাবি করছেন?” (সূত্র: সিএনএন)
kalprakash.com/IM