শ্রদ্ধা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। র্যালি শেষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম এবং আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ শিক্ষার্থী আবদুল কাইয়ুমের পরিবার।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদ আবদুল কাইয়ুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর মায়ের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শহীদ আবদুল কাইয়ুমের মা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আমার বাড়িতে গিয়ে আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমার সন্তান হারানোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “স্বৈরাচারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসন, ধ্বংসপ্রাপ্ত বিচারব্যবস্থা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ ও নারীদের অসামান্য বীরত্বই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে সফল করেছে। উৎসব বা কনসার্ট না করে শোকাতুর শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। শহীদ কাইয়ুমের পরিবার যেন ফ্ল্যাটসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন আশা প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন মতামত চর্চার নিরাপদ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করে তাঁদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ আবদুল কাইয়ুমসহ গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
kalprakash.com/IM