তেজগাঁও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘লাল জুলাই’ কর্মসূচিতে কলেজ প্রশাসনের অনুপস্থিতি ও অবহেলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রক্তক্ষয়ী জুলাই স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে চরম ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে।
গত রোববার (২ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির প্রথম দিনে ছিল গ্রাফিতি অঙ্কন এবং শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন। পরদিন সোমবার অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী।
তবে উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হলেও নতুন বিতর্কের সূচনা হয় কলেজ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের এত বড় ও আবেগের একটি আয়োজনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কিংবা উপাধ্যক্ষ—কাউকেই দেখা যায়নি।
অথচ এর আগে গত ৩০ জুলাই তেজগাঁও কলেজ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি সভায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল।
শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজনে উপস্থিত থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচিতে প্রশাসনের এমন না আসাকে চরম ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “জুলাই তো কোনো একক ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। জুলাই আমাদের সবার। শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন ডাকলে প্রশাসন সেখানে হাসিমুখে উপস্থিত হতে পারে, কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা ডেকেও তাঁদের পায় না। তাহলে আমরা কি ধরে নেব কলেজ প্রশাসন ‘জুলাই’-কে সবার মনে করে না?”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলন কোনো দলীয় ফ্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকা কর্তাদের অনীহা স্পষ্টতই তাঁদের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
kalprakash.com/IM