সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ৯:৪৩:৩৩

ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় চমক, আবারও কি মেসির হাতে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪১
শেয়ার: mail
ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় চমক, আবারও কি মেসির হাতে?

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অরের লড়াই চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আটবারের ব্যালন জয়ী লিওনেল মেসি দেখিয়েছেন, তিনি এখনও এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে আটটি গোল করেছেন এবং ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটও ক্ষণিকের জন্য নিজের করে নিয়েছিলেন আলবিসেলেস্তে দলপতি। প্রশ্ন উঠেছে, আবারও কি মেসির হাতে উঠতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অর?

মেসিকে ব্যালনের অন্যতম দাবিদার মনে করা হলেও বিশ্বকাপে রদ্রি ও লামিন ইয়ামাল নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন। তাঁদের ব্যালন জয়ের সম্ভাবনাও এড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্পেনের হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জয়ের পর তাঁদের লক্ষ্য এখন ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চটা উপহার দেওয়া।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় ও বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ আবারও ব্যালন জিততে পারেন এমন ১০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাঁদের আগের তালিকায় ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন ছিলেন এক নম্বরে। এবার স্পেনের হোল্ডিং মিডফিল্ডার রদ্রিকে স্থান দেওয়া হয়েছে শীর্ষস্থানে।

আগামী অক্টোবরে ব্যালন বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে দেখে নেওয়া যাক দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সে তালিকায় শীর্ষ সারিতে কারা রয়েছেন:

রদ্রি: স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণে সুরক্ষা দেওয়া এবং মাঝমাঠ থেকে পুরো ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে রদ্রি বিশ্বকাপে অসাধারণ এক টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন। তাঁর এই প্রভাবই টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা মেসি ও এমবাপেকে পেছনে ফেলে তাঁকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ এনে দেয়। আগামী অক্টোবরে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতার ক্ষেত্রে এই পারফরম্যান্স হতে পারে অন্যতম নিয়ামক।

ঘরোয়া মৌসুমে খুব বেশি নজরকাড়া পারফরম্যান্স না থাকায় রদ্রির ব্যালন জয়কে হয়তো কিছুটা অবিচার মনে হতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইনজুরি থেকে ফেরার পর নিজের আসল ছন্দ খুঁজে পেতে তাঁর কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই! আর ব্যক্তিগত এই পুরস্কারে দলীয় অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।

হ্যারি কেইন: ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় যেমন তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন এখনও ব্যালন ডি’অর পাওয়ার দৌড়ে বাজির দরে সবার চেয়ে এগিয়ে। ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেন কেইন। যার ওপর ভর করে বায়ার্ন মিউনিখ লিগ ও কাপের ডাবল জয় করে। বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে দেশকে চরম লজ্জা থেকে বাঁচানোসহ মোট ছয়টি গোল করেন কেইন, যার ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

লামিন ইয়ামাল: ইয়ামাল নিশ্চিতভাবেই তাঁর ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি ব্যালন ডি’অর জিতবেন, তবে ২০২৫ সালে রানার্স-আপ হওয়া ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক হয়তো এই বছরই তাঁর প্রথম ট্রফিটি ঘরে তুলতে পারেন। ইয়ামাল প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড় যিনি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপ—উভয় প্রতিযোগিতারই ফাইনাল খেলেছেন এবং দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার মৌসুমেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে ছিল ২৪টি গোল এবং ১৮টি অ্যাসিস্ট। ফলে দৌড়ে তিনি খুব ভালোভাবেই টিকে আছেন।

কিলিয়ান এমবাপে: দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের শীর্ষপর্যায়ে রাজত্ব করার পরও ২৭ বছর বয়সে এমবাপের ঝুলিতে একটিও ব্যালন ডি’অর নেই। এবারও তিনি এই দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই আছেন। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে পাওয়া তাঁর ‘গোল্ডেন বুট’ শিরোপাটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। টুর্নামেন্টে ১০টি গোল করে তিনি প্রথমে মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং পরে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

লিওনেল মেসি: ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে বিশ্বকাপের গুরুত্ব কতটা, এই তালিকায় মেসির উপস্থিতিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নিশ্চয়ই এমএলএস-এ ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলার পারফরম্যান্সের কারণে তিনি এই তালিকায় স্থান পাননি! তবে আটবারের এই বিজয়ীকে কৃতিত্ব দিতেই হয়; ৩৯ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে তাঁর ধার এখনও কমেনি। মেসির আটটি গোল আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিল, যেখানে তারা শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে পরাজিত হয়। ১০ মাস আগে বিশ্বকাপ জেতার ওপর ভিত্তি করেই তিনি ২০২৩ সালের পুরস্কারটি জিতেছিলেন, যখন তিনি ইতোমধ্যে ইন্টার মিয়ামির খেলোয়াড়।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward