বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। তবে নিয়োগের পর থেকেই এ নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম। সংগঠনটির দাবি, অধ্যাপক আবু হানিফ সরকার বিএনপিবিরোধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষের শিক্ষক। এ অভিযোগ তুলে তাঁকে ট্রেজারার হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে একটি ব্যানারও টানানো হয়।
অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অধ্যাপক আবু হানিফ সরকার একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ একাডেমিশিয়ান হিসেবেও পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদ রহমান বলেন, নতুন ট্রেজারার বিএনপিবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষের শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা এ নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার বলেন, মানুষ নানা অভিযোগ করতেই পারে। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি? প্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে যোগদানের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ট্রেজারার নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের বিষয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ বলেন, নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল হয়নি। হতে পারে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আপাতত যোগদান না করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপন বাতিল হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।