বর্তমান ফুটবলে চুলের স্টাইলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ঝাঁকড়া বাবরি চুলের বদলে এখনকার বেশিরভাগ ফুটবলারকে ফেড কাটেই বেশি দেখা যায়। তবে এই ধারার বাইরে গিয়ে নিজের স্বতন্ত্র লুক ধরে রেখেছেন স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। মাঠে পায়ের জাদুর পাশাপাশি তার ঝাঁকড়া চুলও আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।
তবে কুকুরেয়ার এই লম্বা চুলের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন গল্প। অন্য অনেক ফুটবলার সহজেই চুলের স্টাইল বদলালেও ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের জন্য চুল কাটা এতটা সহজ নয়।
কারণ, তার বড় ছেলে মাতেওর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই চুলের বিশেষ সম্পর্ক। কুকুরেয়ার তিন সন্তান—মাতেও, রিও ও বেলা। এর মধ্যে বড় ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। মাত্র ৩ বছর বয়সে তার এই সমস্যা শনাক্ত হয়।
মাতেও বাবার লম্বা চুল পছন্দ করে। তাই ছেলের ভালোবাসার কথা ভেবে চুল কাটেন না কুকুরেয়া। শুধু পছন্দের কারণেই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও গভীর এক অনুভূতি।
কুকুরেয়ার ভয়, কখনো যদি ছেলে তাকে ভুলে যায়, তাহলে বাবার এই চুলই হয়তো তাকে আবার চিনতে সাহায্য করবে। কারণ মাতেওর চুলও অনেকটা তার বাবার মতো।
নিজের লম্বা চুলের রহস্য বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কুকুরেয়া বলেন, ‘আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি ছেলে আছে। টাকা-পয়সা না থাকার পরিবর্তে আমার ছেলে যদি সুস্থ থাকত, সেটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চুল বড় করেছি, কারণ আমার ছেলে এটি পছন্দ করে। যদি কোনো এক মুহূর্তে সে আমাকে ভুলে যায়, অন্তত এই চুল দেখে যেন আমাকে চিনতে পারে।’
ফুটবল মাঠে কুকুরেয়ার ঝাঁকড়া চুল এখন শুধু তার পরিচয়ের অংশ নয়, এটি হয়ে উঠেছে বাবার ভালোবাসা ও সন্তানের প্রতি এক অনন্য প্রতিশ্রুতির প্রতীক।