দেশব্যাপী গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘১ম ন্যাশনাল সায়েন্স কনফারেন্স-২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ক্লাব (BUSC)। জাতীয় পর্যায়ের এ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য গবেষণা উপস্থাপন, জ্ঞান বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে তরুণ গবেষকদের ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনটি তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে গবেষণাপত্রের অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা, দ্বিতীয় ধাপে পোস্টার উপস্থাপন এবং সর্বশেষ ধাপে অন-সাইট ফাইনাল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের গবেষণা উপস্থাপনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
সম্মেলনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ মে থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা নেওয়া হবে। আগামী ৭ আগস্ট প্রথম ধাপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ৮ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পোস্টার জমা দিতে পারবেন। এরপর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা আগামী ২২ আগস্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ফাইনাল অন-সাইট প্রেজেন্টেশনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে গবেষণাপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence), ডেটা সায়েন্স, পরিবেশ ও জলবায়ু, টেকসই জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও বায়োমেডিক্যাল বিজ্ঞান, কৃষি ও খাদ্যবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, রসায়ন ও ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স, গণিত ও কম্পিউটেশন এবং বিজ্ঞান শিক্ষা। পাশাপাশি আন্তঃবিষয়ক গবেষণাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি নীতুন পাল বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ক্লাব বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় বিজ্ঞান সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ (অ্যাবস্ট্রাক্ট) জমা পড়েছে। দেশের বাইরের গবেষকদের আগ্রহও আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।”
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু নছর মো. ত্বোহা বলেন, “বিজ্ঞান ও গবেষণাকে শ্রেণিকক্ষের গণ্ডির বাইরে এনে জাতীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর জ্ঞান-বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। এ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকদের মধ্যে নতুন গবেষণার ধারণা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, “এই সম্মেলন শুধু একটি একাডেমিক আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি জাতীয় মঞ্চ। গবেষণাভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণ, গবেষণাপত্র জমা, নিবন্ধন এবং পেপার গাইডলাইন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আয়োজকদের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে জানা যাবে।