রাজধানীতে মানববন্ধন থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আগামীকালের মধ্যে শফিককে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
‘সাধারণ সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা বলেন, কোনো প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে আইনি প্রতিকার বা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে জবাব দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু থানায় মামলা করে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা অযৌক্তিক ও উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, শাহবাগ থানার পুলিশ মামলা গ্রহণের আগে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে পারত। তিনি দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গ্রেপ্তার করা ঠিক হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজ কোনো অন্যায়ের পক্ষ নেয় না। তবে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং অন্যথায় তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলার হুঁশিয়ারি দেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সংগঠনগুলো তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একজন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সত্য অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা হয়রানি, নির্যাতন এবং মামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, সাবেক নির্বাহী সদস্য এইচ এম আল-আমিন, জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, বিএফইউজের কাউন্সিলর নুরুল আবছার এবং ডিইউজের সদস্য আকাশ মনিসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা।