ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন- এর বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)-কে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটির মহাসচিব মোহাম্মদ মাসুদ, ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মোহাম্মদ পাভেল, বিএমইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফিন, সাংবাদিক নেতা জুয়েল খন্দকারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা ও সহকর্মী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শফিকের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজছিল। পরে রাতে শাহবাগ থানার একটি দল তাকে আটক করে।
আটকের সময় সাংবাদিক শফিককে প্রকাশ্যে মৌখিকভাবে অপমান ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী হিসেবে পরিচিত ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মচারী এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সাংবাদিক তাকে কটূক্তি করেন। এরপর পুলিশ তাকে প্রিজন ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো অনুসন্ধানী বা সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার বা হয়রানির ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনের অপপ্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাংবাদিক নেতারা হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)-এর নিঃশর্ত মুক্তি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আটকের সময় হেনস্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।