বান্দরবানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ এক মাসের জন্য স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রয়োজনে এ সময়সীমা আরও বাড়ানো যায় কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের রেস্টহাউসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়ি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০০ বন্যার্ত পরিবারের হাতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের প্রসঙ্গে মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক নারী এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করেন। বন্যার কারণে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এ বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের ঋণের কিস্তি ও সুদ এক মাসের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সময়সীমা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের ফসল ও কৃষিখাত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যেন কৃষি বিভাগের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে বিনা মূল্যে টিকা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অর্থ ও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের সবাই দিন-রাত কাজ করছে, যাতে বন্যাদুর্গত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাবধী মারমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার এবং জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
kalprakash.com/IM
মুশফিকুর রহমান সোহেল, বান্দরবান প্রতিনিধি 






















