বাংলাদেশ ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo দেবিদ্বারে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল, শহীদদের স্মরণে দোয়া Logo হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা Logo জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করতে সরকারের পরিকল্পনা Logo দুই বছরে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, ৯১ বার সমন্বয়ের পর এখন কোন পর্যায়ে বাজার? Logo চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান Logo নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ চূড়ান্ত নয়, সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা Logo নবম জাতীয় পে স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, নিম্ন গ্রেডে বাড়তে পারে সুবিধা Logo ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, উৎসবে মেতেছে বুয়েন্স আয়ার্স ও রোজারিও Logo গ্রিন কার্ডে নতুন শর্ত বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন, লাগতে পারে জামানত Logo লিওনেল মেসির পুরো নাম কী? জানুন নামের শেষ অংশের ইতিহাস

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানিতে বড় ধস, ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টন

সরকার পরিবর্তনের প্রায় দুই বছর পার হলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে। সর্বশেষ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন। এতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বেকার হয়ে পড়েছেন তাদের কর্মচারীরা। এর ফলে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় পরিবহন, গুদাম, হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও ব্যবসায় ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৩ কর্মদিবসে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ৩ হাজার ৩৮টি ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭৫৩ ট্রাক পণ্য। আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো। বর্তমানে আমদানি কমে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাকে নেমে এসেছে। একইভাবে রপ্তানিও কমে প্রতিদিন ২০ থেকে ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল পাট, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, টিস্যু, মেলামাইন ও মাছ। তবে দুই দেশের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এসব পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং গত ৫ আগস্টের পর দুই দেশের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। এতে সংকটে পড়েছেন বেনাপোলের শত শত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, তাদের কর্মচারী এবং স্থলবন্দরে কর্মরত এক হাজারের বেশি শ্রমিক। ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থলপথে যেসব পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করা হোক।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশি পণ্য স্থলপথে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে বাংলাদেশ সরকার স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। একই বছরের ১৭ মে ভারত সরকার গার্মেন্টস, তৈরি পোশাক, তুলা, সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্র ও ফলজাতীয় পণ্যের স্থলপথে রপ্তানি বন্ধ করে। পরে ২৬ জুন পাট ও পাটজাত পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। সর্বশেষ ১১ আগস্ট বস্ত্র ও পাটজাত চার ধরনের পণ্য স্থলবন্দর ব্যবহার করে আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট বা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তন্তুর কাপড়, পাটের দড়ি, রশি, সুতলি, অন্যান্য তন্তুর দড়ি, রশি, সুতলি এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও ভারত এসব নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার করেনি। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ভারত বাধা হয়ে দাঁড়ালে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি স্থলপথে যেসব পণ্যের আমদানি-রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করার দাবি জানান তিনি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, এ বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সিংহভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হলেও ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত কমে গেছে। ফলে বাণিজ্যের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধই বাণিজ্য কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবিদ্বারে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল, শহীদদের স্মরণে দোয়া

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানিতে বড় ধস, ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টন

প্রকাশিত: ০৬:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সরকার পরিবর্তনের প্রায় দুই বছর পার হলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে। সর্বশেষ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন। এতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বেকার হয়ে পড়েছেন তাদের কর্মচারীরা। এর ফলে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় পরিবহন, গুদাম, হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও ব্যবসায় ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৩ কর্মদিবসে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ৩ হাজার ৩৮টি ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭৫৩ ট্রাক পণ্য। আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো। বর্তমানে আমদানি কমে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাকে নেমে এসেছে। একইভাবে রপ্তানিও কমে প্রতিদিন ২০ থেকে ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল পাট, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, টিস্যু, মেলামাইন ও মাছ। তবে দুই দেশের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এসব পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং গত ৫ আগস্টের পর দুই দেশের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। এতে সংকটে পড়েছেন বেনাপোলের শত শত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, তাদের কর্মচারী এবং স্থলবন্দরে কর্মরত এক হাজারের বেশি শ্রমিক। ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থলপথে যেসব পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করা হোক।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশি পণ্য স্থলপথে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে বাংলাদেশ সরকার স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। একই বছরের ১৭ মে ভারত সরকার গার্মেন্টস, তৈরি পোশাক, তুলা, সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্র ও ফলজাতীয় পণ্যের স্থলপথে রপ্তানি বন্ধ করে। পরে ২৬ জুন পাট ও পাটজাত পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। সর্বশেষ ১১ আগস্ট বস্ত্র ও পাটজাত চার ধরনের পণ্য স্থলবন্দর ব্যবহার করে আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট বা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তন্তুর কাপড়, পাটের দড়ি, রশি, সুতলি, অন্যান্য তন্তুর দড়ি, রশি, সুতলি এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও ভারত এসব নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার করেনি। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ভারত বাধা হয়ে দাঁড়ালে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি স্থলপথে যেসব পণ্যের আমদানি-রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করার দাবি জানান তিনি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, এ বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সিংহভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হলেও ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত কমে গেছে। ফলে বাণিজ্যের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধই বাণিজ্য কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

kalprakash.com/IM