নওগাঁয় ইট দিয়ে রিকশাচালক বাবাকে হত্যার ঘটনায় মাদকাসক্ত ছেলে সুমনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় নওগাঁ শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার সুমন নওগাঁ শহরের বনানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত মাহতাব সরকারের (৬২) ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৬ জুলাই) রাতে শোবার ঘর থেকে বাবাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে হত্যা করে সুমন। ঘটনার সময় বাবার পাশে শুয়ে ছিলেন তিনি। ঘুম না আসায় ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া পড়ছিলেন মাহতাব সরকার। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে হত্যা করে সুমন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সুমন। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া ও অশান্তি চলত। মাদকাসক্তির কারণে প্রায় এক বছর আগে সুমনকে রেখে তার স্ত্রী সুমা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চলে যান। কয়েক দিন আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।
পরে রোববার (৫ জুলাই) রাত ১২টার দিকে রাগ করে বাবার কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ে সুমন। ঘুম না আসায় বাবা মাহতাব সরকার ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া পড়ছিলেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুমন।
একপর্যায়ে সুমন বাবাকে ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মারা যান মাহতাব সরকার। পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে সুমন পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখাকে আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ ও বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সুলতানপুর এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের সময় সুমন ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।