শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | ভোর ৪:০১:০২

স্বামীর নির্মম নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, মর্গে লাশ রেখে উধাও অভিযুক্ত

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৯
শেয়ার: mail
স্বামীর নির্মম নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, মর্গে লাশ রেখে উধাও অভিযুক্ত

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্বামীর দীর্ঘদিনের নির্যাতনের শিকার হয়ে টানা ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সামিয়া আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সামিয়া আক্তার রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।

নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ১২ বছর আগে হাফিজ মোল্লা সামিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সেই নির্যাতনের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। এছাড়া হাফিজ মোল্লার আরও দুই স্ত্রী রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, সর্বশেষ নির্যাতনের ঘটনায় গুরুতর আহত সামিয়াকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পরও মানবিকতার পরিচয় না দিয়ে হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যান হাফিজ মোল্লা। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

এদিকে নিহতের ছোট মেয়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। শিশুটির দাবি, তার বাবা প্রায়ই মাকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে মায়ের একটি আঙুল কেটে দেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করেন। নির্যাতনের ঘটনা কাউকে জানালে মা ও সন্তানদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছে শিশুটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এমন নির্মম নির্যাতনের শিকার না হন।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ | Globe kalprakash.com

স্বামীর নির্মম নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, মর্গে লাশ রেখে উধাও অভিযুক্ত

বিস্তারিত কমেন্টে