পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছেন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার রাতে উপজেলার ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০ থেকে ১৫ জন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে শনিবার প্রায় ৩০ জন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সোহেল রানা বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভিজিডি কার্ড, গভীর নলকূপ, সরকারি প্রকল্পের ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সুযোগে ভাঙ্গুড়া বাজার, রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা ও পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে তিনি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে টাকা নেওয়ার সাত থেকে আট মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ব্যক্তি প্রতিশ্রুত সুবিধা পাননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের একাংশ তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু এখনো কোনো কার্ড পাননি।
আরেক ভুক্তভোগী তায়জাল হোসেন বলেন, সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সাত-আট মাস আগে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার প্রমাণও তার কাছে রয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো ঘর পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে তার স্ত্রী শিখা বলেন, তার স্বামী মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এখন যাদের টাকা বাকি রয়েছে, তা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাদের প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/SAS
পাবনা প্রতিনিধি 






















