সকল রাষ্ট্রীয় বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব সমন্বয় এবং দেশের সাধারণ জনগণের অবিচল সমর্থনের ওপর ভর করে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা শত্রুপক্ষের সমস্ত সামরিক হিসাবনিকাশ ভেস্তে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ও অতুলনীয় আত্মত্যাগ দেখে আজ সমগ্র বিশ্ব হতবাক ও ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত সংঘাতের কথা উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ শুরু করেনি। শত্রুপক্ষ ভুল অংকে কষে ভেবেছিল যে তাদের কৌশলগত সামরিক চাপ ও হঠাৎ আঘাত ইরানের স্থিতিশীলতা বিনাশ করবে এবং তারা নিজেদের অসৎ লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ এক হয়ে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে।”
ইরানের ভূমিতে শত্রুপক্ষের ধ্বংসাত্মক হামলার ধরণ ও কৌশলের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের কিছু আরব দেশের সীমান্ত ও ভূখণ্ডে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের একের পর এক সামরিক ও কৌশলগত বেসামরিক কেন্দ্রে আগ্রাসন চালিয়েছে। আমাদের বড় প্রশ্ন— হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে নৃশংস ও বর্বর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো, সেটির রসদ ও উড্ডয়ন কোন দেশ থেকে পরিচালিত হয়েছিল? বিশেষ করে আমাদেরই কিছু প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশের মাটি ব্যবহার করে এই আক্রমণগুলো করা হয়েছে। আত্মরক্ষার খাতিরে আমরা এমন অন্যায্য পরিস্থিতি কখনোই মেনে নিতে পারি না।”
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সেই সব প্রতিবেশী দেশকে ধ্বংস করা আমাদের মূল নীতি নয়, তবে আমাদের সুনির্দিষ্ট পাল্টা জবাব নিশ্চিতভাবেই সেইসব ভৌগোলিক ঘাঁটির ওপর আঘাত হানবে, যেখান থেকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা পরিচালিত হচ্ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কিসের আইনি বা নৈতিক ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই মুসলিম প্রধান অঞ্চলে একের পর এক সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশগুলোকে দমন ও হুমকি দেওয়ার অধিকার পায়?
ইরানিদের জাতীয় চেতনার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই নিজেদের কোনো বিদেশি বা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অধীন বলে মনে করে না এবং বৈশ্বিক আধিপত্যবাদকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। আমাদের লক্ষ্য অন্য কোনো দেশকে ভয় দেখানো বা ধমকানো নয়। তবে আমরা কখনোই কোনো বিদেশি পরাশক্তির কাছে মাথানত করব না।”
সংঘাত মোকাবিলায় দেশের সামরিক শক্তি ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব ও সাহসিকতা সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আর এই বড় সাফল্যের আসল মূল চাবিকাঠি হলো আমাদের দেশের কোটি কোটি বীর জনগণের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ও অদম্য ভালোবাসা।” (সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন)
kalprakash.com/IM