রাশিয়ার কৌশলগত প্রভাব বলয় থেকে অন্যতম মিত্র সার্বিয়াকে দূরে সরিয়ে আনার কূটনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সার্বিয়া গিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউরোপের যে গুটি কয়েক দেশ মস্কোর সাথে জোরালো কৌশলগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তার মধ্যে সার্বিয়া অন্যতম।
সফরকালে বেলগ্রেডের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের ভবিষ্যৎ ও সার্বিক সামরিক-নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে জোর আলোচনা করবেন জেলেনস্কি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের নিকোলা টেসলা বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সার্বিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী দুব্রাভকা জেদোভিচ হান্দানোভিচ। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের সাথে এক নৈশভোজে অংশ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, “আমরা দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক, উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক কল্যাণকর বিষয়াদি এবং অঞ্চলটির বর্তমান নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।”
ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ ও অনুগত মিত্র হিসেবে পরিচিত সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেও ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের আরোপিত কোনো নিষেধাজ্ঞায় সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। বেলগ্রেডের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ক্ষুব্ধ করেছে এবং ইইউ-তে সার্বিয়ার অন্তর্ভুক্তির গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর করেছে।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ভুচিচ ও জেলেনস্কির মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।
এই সফরের কৌশলগত প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এই আকস্মিক সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো “সার্বিয়াকে কৌশলগতভাবে রাশিয়ার অক্ষ থেকে কিছুটা হলেও দূরে সরিয়ে আনা।”
তবে জেলেনস্কির সফরের আগেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের অপরিবর্তনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন সার্বীয় প্রেসিডেন্ট। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ স্পষ্ট করেন, “আমি নিশ্চিত যে ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর দেশের চলমান সংকট ও অবস্থান বিবেচনায় রুশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো আর্জি জানাবেন। তবে আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সার্বিয়া রাশিয়া সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করেছে এবং এরপর থেকে আমরা তা থেকে একচুলও সরে আসিনি।”
তিনি কঠোর সুরে আরও বলেন, “আমাদের পরবর্তী কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নিরপেক্ষ অবস্থানই সার্বিয়া সরকারের নীতি হিসেবে বহাল থাকবে।” (সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট)
kalprakash.com/IM