যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার চেকপোস্ট এলাকায় ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহাগ হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্তদের দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সোহাগ হোসেন প্রাণে রক্ষা পান। সোহাগ বড়আঁচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। তিনি চেকপোস্ট এলাকার মশিয়ারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা ঘরের বাইরে থেকে সোহাগকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি জানালা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জানালা ও দরজা ভেদ করে বাইরে চলে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন জানান, একই এলাকার ‘আশা’ নামের এক ব্যক্তির কাছে তিনি ব্যবসায়িক লেনদেনের ৫০ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় আশার পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
সোহাগ বলেন, শুক্রবার রাতে আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরি। এর কিছুক্ষণ পর দেখতে পাই ১০ থেকে ১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং আমাকে ভয় দেখাতে জানালার গ্লাস ও দরজায় তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে চলে যায়। আমি কোনো রকমে ঘরের ভেতরে আত্মরক্ষা করায় প্রাণে বেঁচে যাই। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, ঘনবসতিপূর্ণ লোকালয়ের মধ্যে রাতে এভাবে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আশার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে ছিটকে পড়া গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, বাড়ির চারপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/SAS
বেনাপোল প্রতিনিধি 

















