দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, প্রতিদিন গড়ে ৭ জনের বেশি শিশুর প্রাণ যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার নতুন করে আরও ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এবং একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামে হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি মাসেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। শুধু মে মাসের প্রথম ২২ দিনেই মারা গেছে ২৩২ জন। সব মিলিয়ে মাত্র ৭০ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৫১২ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪ হাজারের বেশি রোগী।
তবে আক্রান্তদের বয়স, সামাজিক অবস্থা কিংবা চিকিৎসা পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর বাড়ালেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সুবিধা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে সংকট আরও বাড়তে পারে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























