বাংলাদেশ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চরম সংকটে আবাসন খাত: কমেছে ফ্ল্যাট বিক্রি, চাপের মুখে নির্মাণ উপকরণ ব্যবসা

দেশের আবাসন খাত গভীর মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্ল্যাট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডেভেলপারদের পাশাপাশি নির্মাণ উপকরণ ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের অস্থিরতা এবং নির্মাণ উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে রিয়েল এস্টেট খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রড, সিমেন্ট, বালি, ইট, পাথরসহ প্রায় ২৬৯ ধরনের নির্মাণ উপকরণের বাজারেও।

বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)-এর তথ্যমতে, মাসিক ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ১ হাজার থেকে নেমে ২৫০–৩০০টিতে দাঁড়িয়েছে। বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা এলাকায় বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণ উপকরণের দাম গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪–১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় নতুন প্রকল্প নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ডেভেলপার চলমান প্রকল্প ধীরগতিতে সম্পন্ন করছেন, নতুন প্রকল্প শুরু প্রায় বন্ধ।

নির্মাণ উপকরণ খাতেও বড় ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে দৈনিক কয়েক লাখ টাকার টাইলস বিক্রি হতো, এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক দশ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এ অবস্থায় রড ও সিমেন্ট উৎপাদনও কমেছে। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)-এর তথ্যমতে, চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা সক্ষমতার মাত্র ৫৫–৬০ শতাংশ উৎপাদনে সীমিত রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন খাতের সঙ্গে ১৬৯টির বেশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প জড়িত থাকায় এই মন্দার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নির্মাণ শ্রমিক, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, সুদের হার কমানো, কর সহায়তা এবং নির্মাণ উপকরণের বাজার স্থিতিশীল করা জরুরি। তা না হলে আবাসন খাতের বর্তমান সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

চরম সংকটে আবাসন খাত: কমেছে ফ্ল্যাট বিক্রি, চাপের মুখে নির্মাণ উপকরণ ব্যবসা

প্রকাশিত: ০১:০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দেশের আবাসন খাত গভীর মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্ল্যাট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডেভেলপারদের পাশাপাশি নির্মাণ উপকরণ ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের অস্থিরতা এবং নির্মাণ উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে রিয়েল এস্টেট খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রড, সিমেন্ট, বালি, ইট, পাথরসহ প্রায় ২৬৯ ধরনের নির্মাণ উপকরণের বাজারেও।

বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)-এর তথ্যমতে, মাসিক ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ১ হাজার থেকে নেমে ২৫০–৩০০টিতে দাঁড়িয়েছে। বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা এলাকায় বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণ উপকরণের দাম গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪–১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় নতুন প্রকল্প নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ডেভেলপার চলমান প্রকল্প ধীরগতিতে সম্পন্ন করছেন, নতুন প্রকল্প শুরু প্রায় বন্ধ।

নির্মাণ উপকরণ খাতেও বড় ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে দৈনিক কয়েক লাখ টাকার টাইলস বিক্রি হতো, এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক দশ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এ অবস্থায় রড ও সিমেন্ট উৎপাদনও কমেছে। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)-এর তথ্যমতে, চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা সক্ষমতার মাত্র ৫৫–৬০ শতাংশ উৎপাদনে সীমিত রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন খাতের সঙ্গে ১৬৯টির বেশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প জড়িত থাকায় এই মন্দার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নির্মাণ শ্রমিক, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, সুদের হার কমানো, কর সহায়তা এবং নির্মাণ উপকরণের বাজার স্থিতিশীল করা জরুরি। তা না হলে আবাসন খাতের বর্তমান সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

kalprakash.com/SS