বাংলাদেশ ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ফেসবুকে জাল নোটের কারবার, লাখ টাকার বান্ডিল মিলছে ১২ হাজারে

টাকার বান্ডিলের স্তূপ (সংগৃহীত ছবি)

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট তৈরির একটি চক্র। ফেসবুক পেজ খুলে প্রকাশ্যেই চলছে ‘এ গ্রেড’ জাল টাকার বিজ্ঞাপন। হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে কুরিয়ারের মাধ্যমে সরবরাহের আশ্বাস—সবই চলছে অনলাইনে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সদস্যরা মাঝে মাঝে গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগে অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে ঈদকেন্দ্রিক বাজার ও পশুর হাট ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

জাল টাকা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সব ধরনের জাল নোট ‘এ গ্রেড’ মানের বলে দাবি করা হয়। এক লাখ টাকার জাল নোটের বান্ডিল ১২ হাজার টাকায় দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের শর্ত থাকে এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়।

কথোপকথনে আরও জানা যায়, চক্রটি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগও দেয় এবং ‘স্যাম্পল’ দেখিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পেজগুলোতে আকর্ষণীয় ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে ক্রেতা টানা হয়। কোথাও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল নোট তৈরির ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঈদ, পূজা বা বড় উৎসবকে কেন্দ্র করেই জাল নোট চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটকে লক্ষ্য করে এসব নোট বাজারে ছড়ানো হয়।

সম্প্রতি র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও তৈরির সরঞ্জামসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব চক্র আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে উৎসব মৌসুমে বাজারে জাল টাকা ছাড়ে।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা সহজে জামিন পাওয়ায় অপরাধীরা বারবার একই অপরাধে ফিরে আসছে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে জাল নোটের কারবার, লাখ টাকার বান্ডিল মিলছে ১২ হাজারে

প্রকাশিত: ১২:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট তৈরির একটি চক্র। ফেসবুক পেজ খুলে প্রকাশ্যেই চলছে ‘এ গ্রেড’ জাল টাকার বিজ্ঞাপন। হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে কুরিয়ারের মাধ্যমে সরবরাহের আশ্বাস—সবই চলছে অনলাইনে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সদস্যরা মাঝে মাঝে গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগে অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে ঈদকেন্দ্রিক বাজার ও পশুর হাট ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

জাল টাকা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সব ধরনের জাল নোট ‘এ গ্রেড’ মানের বলে দাবি করা হয়। এক লাখ টাকার জাল নোটের বান্ডিল ১২ হাজার টাকায় দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের শর্ত থাকে এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়।

কথোপকথনে আরও জানা যায়, চক্রটি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগও দেয় এবং ‘স্যাম্পল’ দেখিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পেজগুলোতে আকর্ষণীয় ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে ক্রেতা টানা হয়। কোথাও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল নোট তৈরির ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঈদ, পূজা বা বড় উৎসবকে কেন্দ্র করেই জাল নোট চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটকে লক্ষ্য করে এসব নোট বাজারে ছড়ানো হয়।

সম্প্রতি র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও তৈরির সরঞ্জামসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব চক্র আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে উৎসব মৌসুমে বাজারে জাল টাকা ছাড়ে।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা সহজে জামিন পাওয়ায় অপরাধীরা বারবার একই অপরাধে ফিরে আসছে।

kalprakash.com/SS