বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. ইহসানুল ইসলাম ইহসানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সদস্যপদ ও ওষুধ ব্যবসার বৈধতা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, অনাস্থা প্রস্তাবে ১৫ জন সদস্যের সমর্থন দেখানো হলেও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭ থেকে ৮ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সংগঠনের সদস্য নন, এমনকি কারও কারও ওষুধের দোকান বা ড্রাগ লাইসেন্সও নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর জেলা শহরের কালীবাড়িতে বিসিডিএস ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ১৫ সদস্যের অনাস্থার কথা বলা হলেও উপস্থিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিসিডিএসের সদস্য কিংবা ওষুধ ব্যবসায়ী নন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ব্যানার ও সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজনের কোনো ড্রাগ লাইসেন্স বা ফার্মেসি নেই। এ সময় বর্তমান কমিটির তিন থেকে চারজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল এমন একজন প্রকৃত সদস্য মাইকেল চন্দ বর্মনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, সংগঠনের ১০ নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য আবু তাহের তাঁকে ফোন করে অফিসে একটি মিটিং আছে বলে জানান। সেখানে যাওয়ার পর তাঁকে না জানিয়ে জোরপূর্বক সংবাদ সম্মেলনে দাঁড় করানো হয়। এ বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না।
অন্য একটি সূত্রের দাবি, স্বাক্ষর ও তালিকায় থাকা অনেকেরই কোনো ওষুধের দোকান বা সদস্যপদ নেই। লাইনে দাঁড়ানো ইউসুফ আলীর কোনো ড্রাগ লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফরহাদ হোসেনের কালীবাড়িতে কোনো দোকান নেই এবং এ কে এম হামিদুর রহমানও বিসিডিএসের সদস্য নন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিসিডিএসের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাকিম মোহাম্মদ আনসারুল হকের পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছেন। তবে সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাবের খাতায় তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিডিএস ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. ইহসানুল ইসলাম ইহসান বলেন, মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পেরে একটি কুচক্রী মহল তাঁর ও সংগঠনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা ও ভুয়া অনাস্থার নাটক সাজিয়েছে। এ ঘটনায় সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মির্জা ফয়সল আমিনকে বিসিডিএস ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিয়ে ভোট দিয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তাঁদের সংসদ সদস্যের শপথ অনুষ্ঠানের দিনই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মানববন্ধন করা হয়েছে।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের দাবি, জেলা সভাপতি ডা. মো. ইহসানুল ইসলাম সংগঠনের স্বার্থে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল এবং সমিতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভুয়া লোকজনকে দাঁড় করিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।