বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির দৃশ্যধারণ দেখতে এসে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গোলাম রতন (৪৭) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইলদীঘির পাড়ে অবস্থিত নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ দেখতে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকদের ঢল নামে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রায় আড়াই শতাধিক পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ৫০ জন স্কাউট সদস্য এবং শতাধিক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন।
তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক দর্শকের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে চোর ও পকেটমার চক্র। অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকদের পকেট ও ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠান শেষে ভুক্তভোগীরা নিজেদের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে অনেকেই কালাই থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। এ সময় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গোলাম রতন (৪৭) নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে।
কালাই থানার ওসি (তদন্ত) ইমায়েদুল জাহেদী জানান, অনুষ্ঠান শেষে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ভুক্তভোগী সরাসরি থানায় এসে মোবাইল ফোন চুরির মৌখিক অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের সংখ্যা প্রায় ২০০টির বেশি হতে পারে।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।