জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার নিচে নেমে এসেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮২ ডলার ৮৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯২ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।
এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে দরপতনের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার পথে রয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, স্বর্ণের দাম কমতে কমতে ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সমর্থন স্তরকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর আগে দাম কমলে বিনিয়োগকারীদের কেনার প্রবণতা বাজারের পতন ঠেকাতে ভূমিকা রাখত। তবে এবার সেই প্রবণতা স্বর্ণের বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্তে ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের উচ্চ দাম যুক্ত হওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে, যা স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পেট্রলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোক্তাদের ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।
সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ালে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। এতে স্বর্ণের চাহিদা ও দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। এ সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ।
এদিকে শুক্রবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। টানা চতুর্থ মাসের মতো তেলের দাম বৃদ্ধির পথে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড সুদের হার বাড়ালে স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অক্টোবরে বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মূল্যচাপ আরও বাড়ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫০ ডলার ৭৪ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩৯ ডলার ৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯৮২ ডলার ৫০ সেন্ট হয়েছে। এ তিন ধাতুর দামও সাপ্তাহিক ও মাসিক হিসাবে কমার পথে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM