শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১১:০৩:৫৫
শিরোনাম
● স্কয়ার গ্রুপের কারখানায় চাকরি, আকর্ষণীয় বেতন ● বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে থাইল্যান্ডকে দুই প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ ● যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর ● একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড ● পতিত ও নব্য দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা হবে: নাহিদ ইসলাম ● চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল রাসেল ভাইপার আটক, সুন্দরবনে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ ● সাতক্ষীরায় ফেনসিডিল ও ভারতীয় ওষুধ জব্দ ● মনিরামপুরে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ● জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোল্লাহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৮, সংকটাপন্ন ১ ● দুই জেলার সীমান্তে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ ● স্কয়ার গ্রুপের কারখানায় চাকরি, আকর্ষণীয় বেতন ● বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে থাইল্যান্ডকে দুই প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ ● যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর ● একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড ● পতিত ও নব্য দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা হবে: নাহিদ ইসলাম ● চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল রাসেল ভাইপার আটক, সুন্দরবনে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ ● সাতক্ষীরায় ফেনসিডিল ও ভারতীয় ওষুধ জব্দ ● মনিরামপুরে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ● জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোল্লাহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৮, সংকটাপন্ন ১ ● দুই জেলার সীমান্তে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ

এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ, নতুন সময়সীমা ২০২৯

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০০
শেয়ার: mail
এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ, নতুন সময়সীমা ২০২৯

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল গৃহীত এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। সময়সীমা বাড়ানোর ফলে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা অতিরিক্ত তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।

একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতি বছর উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশের জন্য এই মেয়াদ বৃদ্ধি রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য ঝুঁকিতে ছিল এই খাত।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য সুখবর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্ধিত সময় অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং যেসব দেশের সঙ্গে প্রয়োজন, সেসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করতে হবে।

অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন জানান, শুধু উত্তরণের সময়সীমা বাড়ালেই অর্থনীতি আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম হবে না। বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

যে কারণে আরও সময় চাইল বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল সরকার।

পরবর্তী সময়ে ইউএন-সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। এরপর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) গত ২১ জুলাই সাধারণ পরিষদকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়।

এই সময় বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী ও বাজারগুলোর নিয়ম সাপেক্ষে অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময়েও এলডিসি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

তবে অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত সময় পাওয়া মানেই উত্তরণের চ্যালেঞ্জগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়ে যাবে না। সংশোধিত সময়সীমার আগেই বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে কৃষি, শিল্প উন্নয়ন, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি দেশটিকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করে।

২০১৮ ও ২০২১ সালের পরপর দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক—জাতিসংঘের এই তিনটি যোগ্যতার মানদণ্ডই পূরণ করেছিল বাংলাদেশ।

এরপর ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউএন-সিডিপি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সুপারিশ করে। একই বছরের ৮ জুন ইকোসক সেই সুপারিশ অনুমোদন করে এবং ২৪ নভেম্বর সাধারণ পরিষদ উত্তরণের বিষয়ে সম্মতি জানায়।

সে সময় কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে স্বাভাবিক তিন বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে চূড়ান্ত উত্তরণের জন্য ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

উত্তরণ হলে যেসব চ্যালেঞ্জে পড়তে পারত বাংলাদেশ

এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়তে পারে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের মতো বাজারে পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিবর্তনের মাত্রা ও সময় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য অংশীদারদের নিজস্ব নীতি এবং তাঁদের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ওপর।

বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে প্রাক্কলন করেছিল, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাবের একটি ধারণা, নিশ্চিত ফলাফল নয়।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান টিবিএসকে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে মেধাস্বত্ব (আইপি) সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো কোনো এফটিএ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেনি। ফলে এ ধরনের চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগও বাড়বে।

মোস্তফা আবিদ খান আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অনেক সুবিধা হারাবে। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে পাওয়া অতিরিক্ত সময় কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। সময়টি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভবিষ্যতের সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসবে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে আবার একই অবস্থায় ফিরে যেতে হবে।

তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প ও অর্থায়নে ঝুঁকি

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাত অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার পরিবর্তনের কারণে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্রেতাদের জন্য পণ্যের কার্যকর দাম বেড়ে গেলে তা ক্রয়াদেশ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এসব ঝুঁকি কমাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের মুখে পড়বে ওষুধশিল্পও। এলডিসি হিসেবে আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিধিমালার অধীনে কিছু বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। উত্তরণের পর প্রযোজ্য বিধিমালার পরিবর্তন পেটেন্টযুক্ত ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

উন্নয়ন অর্থায়নও উদ্বেগের আরেকটি ক্ষেত্র। উত্তরণের পর এলডিসি-নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা ও সহজ শর্তের ঋণব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব অনুদান বা সহজ শর্তের ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

তাই অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০২৯ সালের আগে যেসব সংস্কার জরুরি

বিশ্ব বাণিজ্য, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির দুর্বলতার অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কার।

আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর সঙ্গে বিকল্প বাজার সুবিধার পথ খুঁজতে হবে এবং বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো ও রপ্তানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দর ও কাস্টমস সেবার উন্নয়নও অপরিহার্য।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য ও ইলেকট্রনিকস রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে হবে।

এ ছাড়া বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই মেয়াদ বৃদ্ধি বাংলাদেশকে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় দিচ্ছে। তবে এর সুফল নির্ভর করবে সরকার ও বেসরকারি খাত কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই সময়কে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করতে পারে, তার ওপর।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, উত্তরণের পর শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিতে এই বর্ধিত সময়ে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আগেভাগেই আলোচনা শুরু করা উচিত।

রপ্তানিকারকদেরও আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, পাটজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে হবে।

করের আওতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন ফাহমিদা।

তিনি বলেন, স্পষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকারের একটি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় মাস পরপর এই অগ্রগতি পর্যালোচনা ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ, নতুন সময়সীমা ২০২৯

বিস্তারিত কমেন্টে