‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণতূর্য’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্রোহী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রংপুরের মিঠাপুকুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার আমির আসাদুজ্জামান শিমুল, ইমাদপুর এফ.ইউ. ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান এবং মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ. এম. মাহাবুবুর রহমান।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম। আলোচনায় বক্তারা নজরুলের সাহিত্যকর্ম, কবিতা, গান, বিদ্রোহী চেতনা, মানবতাবাদ এবং শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদী ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবমুক্তিরও কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন আজও সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অনুপ্রেরণা জোগায়।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের জীবনাদর্শ ও সাহিত্যচর্চা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সেমিনার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে জানার পাশাপাশি দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুলের গান, কবিতা ও সাহিত্যনির্ভর পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও আদর্শের চর্চা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
kalprakash.com/IM