খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় আপন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে চিকিৎসক দেখানো নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রোগী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আট দিনের নবজাতক ও তার মায়ের ভিজিট বাবদ এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজন মাওলানা মো. ইসরাফিল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। ওই পোস্টের পর ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ইসরাফিলের অভিযোগ, তার আট দিনের নবজাতক শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে মা ও শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর জন্য তিনি আপন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করেন। তবে রিসেপশন থেকে তাকে গাইনি ও প্রসূতি রোগবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্নিগ্ধা চৌধুরীর সিরিয়াল দেওয়া হয়।
তিনি জানান, চিকিৎসকের কাছে শিশুর সমস্যার কথা তুলে ধরলে ছয়টি পরীক্ষা লিখে দেওয়া হয় এবং দ্রুত পরীক্ষাগুলো করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় নিজের আর্থিক অসচ্ছলতা ও যাতায়াত ভাড়া না থাকার কথা জানিয়ে তিনি কিছু ওষুধ লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তার দাবি, তখন চিকিৎসক জানান, তিনি এ ধরনের রোগের বিশেষজ্ঞ নন। নবজাতককে শিশুবিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তার স্ত্রীকে আপাতত আয়রন ও ক্যালসিয়াম চালিয়ে যেতে বলেন।
রোগীর স্বজনের অভিযোগ, চিকিৎসক দেখানোর জন্য সঠিক বিভাগে সিরিয়াল না পাওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসক নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ভিজিট বাবদ নেওয়া অর্থের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আপন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসাদুজ্জামান দিপু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী থেকে দুজনের নয়, একজনের ভিজিট নেওয়া হয়েছে। রোগীকে চিকিৎসক পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু রোগীর স্বজন পরীক্ষা করাতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত জানান, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM