টাইমস হায়ার এডুকেশনের (THE) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংস ২০২৭-এ স্থান পায়নি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এ র্যাংকিংয়ে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ মর্যাদা পেয়েছে। তবে প্রকাশিত তালিকায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। ফলে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি কোনো র্যাংক বা ‘রিপোর্টার’ মর্যাদা পায়নি বলে তালিকা থেকে দেখা যায়।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৮০১–১০০০ বৈশ্বিক ব্যান্ডে রয়েছে। ১০০১–১২০০ ব্যান্ডে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিএটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
পাবিপ্রবি ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা প্রায় একই সময়ে শুরু হলেও এবারের র্যাংকিংয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে আক্ষেপ দেখা দিয়েছে।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৭ সালের র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাদান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি—এই পাঁচটি বিস্তৃত ক্ষেত্রে মোট ১৭টি পারফরম্যান্স সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাংকিংয়ে পাবিপ্রবি স্থান না পাওয়াকে হতাশার পাশাপাশি আত্মমূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক গবেষণা সুবিধা বাড়াতে হবে। শিল্পের সঙ্গে গবেষণার সংযোগ তৈরি করে বাস্তবভিত্তিক উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে। র্যাংকিং নয়, একটি শক্তিশালী গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের আযম সিয়াম বলেন, ‘টাইমসের র্যাংকিংয়ে আসতে পারা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুব সম্মানের। এ ক্ষেত্রে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পাবিপ্রবির চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। বিশেষ করে Research Environment, Industry Collaboration এবং Practical Impact-এ আমাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার মান ও citation বাড়ানোর পাশাপাশি industry-র সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণার প্রয়োগ বাড়াতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, পাবিপ্রবির Research Environment আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে এবং গবেষণার পরিমাণও বেড়েছে। আশা করি, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়েও পাবিপ্রবি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।’
এ বিষয়ে রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে, অর্থাৎ বিশ্বপরিসরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, গবেষণায় প্রণোদনা প্রদান এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চমানের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ এবং উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে একটি সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
এবারের র্যাংকিংয়ে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। এটি টানা ১১তম বছর অক্সফোর্ডের শীর্ষস্থান ধরে রাখার ঘটনা।
উল্লেখ্য, টাইমস হায়ার এডুকেশনের ওয়েবসাইটে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোফাইল রয়েছে। তবে ২০২৭ সালের প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো অবস্থান দেখানো হয়নি।
kalprakash.com/IM