নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. লিটন আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন মো. কাওছার আলী (৫০), তাঁর ছেলে মো. কানন (২২), স্ত্রী মোছা. হাফিজা বেগম (৪০), মো. হাতেম আলী (৬০) ও মো. হাসেম খাঁ (৫০)। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় মহিদুল ইসলামের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন লিটন আলী। এ সময় মো. হাসেম খাঁ তাঁর সঙ্গে কথা আছে বলে পাশের একটি প্রকল্পের কাছে রাস্তার ওপর ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সেখানে কাওছার আলীসহ অন্য অভিযুক্তরা লিটনকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুক্ষণ পর কামারপাড়া থেকে স্বরূপপুরগামী সড়কের মাঝামাঝি স্থানীয় রনির কলাবাগানের সামনে অটোরিকশাটি থামানো হয়। এরপর লিটনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে কাওছার আলীর নির্দেশে অভিযুক্তদের একজন ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে লিটনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিটনের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা আহত লিটনকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি রাখেন।
এ ঘটনায় লিটনের মামা মো. বারিক হোসেন বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাওছার আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনন চন্দ্র দাস অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে; তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM