রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। মামলার অপর দুই আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক রবিউল আলম পরীমণির আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এদিন পরীমণির পক্ষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) আদালতে হাজিরা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতে সময়ের আবেদন করেন তিনি। আইনজীবী আদালতকে জানান, পরীমণি কিছুদিন আগে পায়ে আঘাত পেয়ে অসুস্থ ছিলেন। হঠাৎ পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় চলাফেরায় অসুবিধা হচ্ছে। এ কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেননি। এজন্য শুনানি পেছাতে সময়ের আবেদন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন এর বিরোধিতা করে পরীমণির জামিন বাতিলসহ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার আবেদন করেন। একই সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে পরীমণির হাজিরাও বাতিলের আবেদন করেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই আসামি কয়েক বছর ধরে আদালতে না এসে সময় প্রার্থনা করছেন, যা অগ্রহণযোগ্য।
পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমণির বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট র্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরীমণির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমণির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। ওই লাইসেন্সের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে যায়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরীমণি মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমণি তার গাড়ি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করেন। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে পরীমণি হাইকোর্টে আবেদন করেন। ২০২২ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করে পরীমণির ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে এ মামলায় পুনরায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।
kalprakash.com/IM