চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে স্টেট ডিনারের আয়োজন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত জমকালো এই নৈশভোজে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও তাদের স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে আলোচিত।
ডিনারের অতিথি তালিকায় ছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, ডেল টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান ও সিইও মাইকেল ডেল, মেটার মার্ক জাকারবার্গ এবং অ্যাপলের টিম কুকসহ প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের একাধিক শীর্ষ ব্যক্তি। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তালিকায় শতাধিক অতিথির নাম ছিল।
স্টেট ডিনারে প্রযুক্তি খাতের এত বড় উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলমান থাকায় এই খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকও সামনে এনেছে।
এর আগে মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরেও বড় মার্কিন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সঙ্গে ছিল। সেই সফরে এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যাপলের টিম কুক ও টেসলার ইলন মাস্কসহ কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী অংশ নেন। বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজেও ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল।
তবে এবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত ডিনারে কোনো চীনা করপোরেট প্রধানকে দেখা যায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চীনা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের অতিথি তালিকায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সফরে তাদের ভূমিকা ও প্রটোকল কী হবে, তা নিয়ে আলোচনায় মার্কিন পক্ষের প্রস্তাব দিতে দেরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে, স্টেট ডিনারের আগে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠকের পর বড় কোনো নতুন চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই স্টেট ডিনার তাই শুধু আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত মাত্রাও এতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।