সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তির সময় বেতন কেমন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
প্রথম নিয়োগে বেতনের বিষয়ে পে স্কেলে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বা তার পরে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীকে (বদলি বা পদোন্নতি ছাড়া) নিয়োগকৃত পদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এ নির্ধারিত স্কেলে প্রারম্ভিক বেতন দেওয়া হবে। এটি অনুচ্ছেদ ১(৩) ও অনুচ্ছেদ ৩-এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে।
তবে শর্ত হলো, প্রথম নিয়োগের পদটি যদি জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর ৮৮০০০–১০৫৯০০ (৯ম গ্রেড) বা তার ঊর্ধ্বের স্কেলের হয়, তাহলে যা যা প্রযোজ্য হবে—
- ক. এমবিবিএস ডিগ্রিধারী, ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার বা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী কিংবা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত সমপর্যায়ের ডিগ্রিধারীকে একটি অগ্রিম বেতনবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দেওয়া হবে। তবে এ ধরনের ডিগ্রি সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারিত থাকতে হবে।
- খ. ইঞ্জিনিয়ারিং বা স্থাপত্যবিদ্যায় ডিগ্রি বা মাস্টার্স ডিগ্রির পাশাপাশি সরকার কর্তৃক এ উদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউট) থেকে ফিজিক্যাল প্ল্যানিংয়ে ডিগ্রি থাকলে, অথবা আইন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে এবং এ ধরনের ডিগ্রি সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারিত থাকলে দুটি অগ্রিম বেতনবৃদ্ধি দেওয়া হবে।
- গ. কোনো কর্মচারী চিকিৎসা অনুষদের লাইসেন্সধারী হলে এবং ওই লাইসেন্স তাঁর পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারিত থাকলে তিনি নিয়োগ লাভের সময় একটি অগ্রিম বেতনবৃদ্ধি পাবেন।
- ঘ. তৎকালীন এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট মেমোরেন্ডাম নং SIV / 830-Edn (তারিখ: ১৮ জুলাই ১৯৭০), SIV / 831-Edn (তারিখ: ১৮ জুলাই ১৯৭০), 832 Edn (তারিখ: ১৭ জুলাই ১৯৭০) এবং 833-Edn (তারিখ: ১৭ জুলাই ১৯৭০) অনুযায়ী উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা, যা অগ্রিম বর্ধিত বেতন মঞ্জুরির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তা বলবৎ থাকবে। একইভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ও.এম. নং MF (ID) – 1-3 / 77 / 522 (তারিখ: ১৩ মে ১৯৭৮), MF (ID) – II / P-I / 81 / 457 (তারিখ: ১৬ এপ্রিল ১৯৮১) এবং MF (ID) -II-/ I-1/81/800 (তারিখ: ২৯ জুন ১৯৮১)-এ বেতনবৃদ্ধি মঞ্জুরির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আরোপিত শর্তগুলোও বলবৎ থাকবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২২ জানুয়ারি ১৯৯৪ তারিখের স্মারক নং-পার-৩/টি-৩/৯৩/৬১, যা বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের প্রবেশ পদের কর্মচারীদের উচ্চতর প্রারম্ভিক বেতন প্রদান-সংক্রান্ত, এবং অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১১ অক্টোবর ২০২১ তারিখের এস. আর. ও. নং-৩১৮-আইন/২০২১-এর বিধানাবলিও বলবৎ থাকবে।
- ঙ. ১ জুলাই ২০১৬ তারিখে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর বেতন প্রথমে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করা হবে। এই অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এর সঙ্গে অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) যোগ করতে হবে।
- চ. এই অনুচ্ছেদে উল্লিখিত অগ্রিম বেতনবৃদ্ধি কেবল চাকরিতে প্রথম নিয়োগ লাভের সময় প্রাপ্য হবে। পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।
আরও বলা হয়েছে, বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হিসেবে ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর ৯ম গ্রেডে একটি অতিরিক্ত অগ্রিম বেতনবৃদ্ধির সুবিধাসহ নির্ধারণ করা হবে। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো ক্যাডার পদে নিয়োগ পাননি, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশে ৯ম গ্রেডে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছেন, এমন সব কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করা হবে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সময়ে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যোগ দিলে বর্তমান বেতন হিসেবে যা পেতেন, তার সঙ্গে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের প্রযোজ্য শতাংশ (অনুচ্ছেদ ১(৩)-এর বিধান অনুযায়ী) যোগ করে বেতন পাবেন।
kalprakash.com/IM