নাটোরের নলডাঙ্গায় দুর্ঘটনাকবলিত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার সূত্র ধরে ৩৩ কেজি ৩৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নলডাঙ্গা পৌরসভার বুড়িরভাগ মহল্লার ময়েন উদ্দিন মন্টুর ছেলে গালিব মোস্তফা (২৫), নমির শেখের ছেলে নজরুল ইসলাম ভোলা (৪০) এবং কাচু প্রামানিকের ছেলে শাহাদৎ হোসেন পিপল (৪৫)। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অপর দুই আসামি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পানিকাটা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে আরমান (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা এক সিএনজিচালক পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নলডাঙ্গা থানার বুড়িরভাগ জামে মসজিদের সামনে পাকা সড়কের একটি বাঁকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশের কাছে তথ্য আসে, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটিতে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় গাঁজা বহন করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় গাঁজা বহনকারী আরমান আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। সেই সুযোগে গাঁজার বস্তাগুলো শাহাদৎ হোসেনের সহযোগিতায় গালিব মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের বাড়িতে গোপনে ভাগ করে সরিয়ে রাখা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ প্রথমে গালিব মোস্তফার বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁর দেখানো মতে বাড়ির নিচতলার বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ওপর থেকে দুটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তার পাঁচটি প্যাকেট থেকে ১৯ কেজি ৭৭০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। পরে নজরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় আরও একটি প্লাস্টিকের বস্তা। সেই বস্তার তিনটি প্যাকেট থেকে ১৩ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। দুই বাড়ি মিলিয়ে মোট ৩৩ কেজি ৩৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, উদ্ধার করা আলামত বিধি অনুযায়ী জব্দ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/IM