চট্টগ্রামে এক দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে চলছে শোকের মাতম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার পরিবেশ। হঠাৎ প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় সান্ত্বনার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াত রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল হকের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিফায়াত ছিলেন মেজ। তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার নাম রাফতা তাসলিম ইকরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের স্বজনরা জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পাসের পর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন রিফায়াত। সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পান তিনি। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
নিহত সেনাসদস্যের ভাই দীপ্ত বলেন, চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ রাজশাহীতে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ভাইয়ের মাগফিরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।
ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রিফায়াত ছিল মেজ। আজ আমার চাওয়ার আর কিছুই নেই, আপনারা সবাই শুধু আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’
স্বজনরা জানান, দুপুরের মধ্যে রিফায়াতের মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
kalprakash.com/IM