উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান দুই দিনে দুইবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন এ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আল আজরাক’-এ ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় আঘাত হানে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের ছয় মাসে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক রূপ নিয়েছে। তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে কড়া নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এ উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক ৪৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গত দুই দিনে দুই দফায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে যুদ্ধজাহাজটি সফলভাবে সে হামলা প্রতিহত করে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি। এরপরই পদক্ষেপ হিসেবে ওমান সাগরে থাকা ইরানি তেলবাহী জাহাজ এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং কৌশলগত খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দেরিয়াতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়। হামলার আগেই জাহাজের নাবিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে সেন্টকম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলমান যুদ্ধের আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
হামলার দায় স্বীকার করে আইআরজিসি জানায়, ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ এবং ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলেও দাবি করে তারা। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইন বন্দরে অবস্থানরত তেলের জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেলবাহী জাহাজে আক্রমণ অব্যাহত থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তবে পাল্টাবক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে। তিনি মন্তব্য করেন, ইরান যতবারই মার্কিন রণতরীতে হামলার চেষ্টা চালাবে, ততবারই তাদের একটি করে তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।
kalprakash.com/IM