শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ | ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১০:৩২:৫৮

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ৫টি অনন্য সুফল ও প্রতিদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯
শেয়ার: mail
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ৫টি অনন্য সুফল ও প্রতিদান

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বন্ধন সুদৃঢ় করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে ইসলাম। পবিত্র ইসলাম ধর্মে আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচার ও সদ্ভাব বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ইসলামের সামাজিক শিক্ষার অন্যতম মৌলিক দিক।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা নিকটাত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফিরদের হক আদায় করো এবং অপচয় কোরো না।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৬)

হাদিস শরিফেও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৬)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার বিশেষ প্রতিদান পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার একাধিক পার্থিব ও পরকালীন সুফলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি সুফল নিচে তুলে ধরা হলো:

১. রিজিক বৃদ্ধি: আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আন্তরিক হৃদ্যতা মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে যে তার ধন-সম্পদে প্রাচুর্য আসুক এবং আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬)

২. আয়ু বৃদ্ধি: মহানবী (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘যাকে আনন্দ দেয় তার রিজিকের সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘায়ু লাভ, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৩৯)

৩. দ্রুত সওয়াব লাভ: আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণের প্রতিদান মুমিন ব্যক্তি অত্যন্ত দ্রুত লাভ করেন—তা দুনিয়াতে হোক কিংবা আখিরাতে। হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার আমরা নবীজি (সা.)-এর চারপাশে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে মুসলমানরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। কেননা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার চেয়ে দ্রুত সওয়াব লাভ হয় এমন আর কোনো আমল নেই।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৫/১২৫)

৪. অপ্রীতিকর বিষয় ও অপমৃত্যু থেকে রক্ষা: এই উত্তম আমল জীবনের বিপদ-আপদ দূর করে এবং অপমৃত্যু রোধ করে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই দান-সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ তাআলা রিজিক বৃদ্ধি করেন, অপমৃত্যু থেকে হেফাজত করেন এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস: ৪৪০৪) তিনি আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার আয়ু বৃদ্ধি হোক, রিজিক প্রশস্ত হোক এবং অপমৃত্যু রোধ হোক, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৪/১৬০)

৫. পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি তৈরি: আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমাদের বংশপরম্পরা ও আত্মীয়দের সম্পর্কে জ্ঞান রাখো, যাতে তোমরা তাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখতে পারো। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭৯)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় যেমন পার্থিব জীবনে বরকত রয়েছে, তেমনি পরকালীন জীবনেও রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সাফল্য। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আত্মীয়তার হক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ৫টি অনন্য সুফল ও প্রতিদান

বিস্তারিত কমেন্টে