বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পত্র এবং নথি নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব কমাতে আকস্মিক পরিদর্শনের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবদের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একাধিক ‘পরিবীক্ষণ টিম’ গঠন করা হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এসব পরিবীক্ষণ টিম কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পরিদর্শন করে পত্র, নথি ও সামগ্রিক কার্যাবলি নিষ্পত্তির বর্তমান অবস্থা যাচাই করবে। যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মসম্পাদনের হার তুলনামূলক কম, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই আকস্মিক পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে।
পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট টিমকে ওই দিন অথবা পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যেই তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সচিবদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকাংশেই নির্ভর করছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজের গতিশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সময়ানুবর্তিতার ওপর। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনায় সরকার ইতোমধ্যে ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি (জিপিএমএস)’ চালু করেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পত্র ও নথি নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হচ্ছে। অথচ সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনপ্রশাসনসংশ্লিষ্ট সেবার মানোন্নয়নের অন্যতম প্রধান নির্দেশক হলো যথাসময়ে পত্র ও নথি নিষ্পত্তি করা। এ কারণে দৈবচয়ন বা র্যান্ডম ভিত্তিতে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
নির্বাচনী ইশতেহার, জিপিএমএস এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পুল থেকে তিন সদস্যের কয়েকটি পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টিমকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আকস্মিক পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM