রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রয়োজনে আত্মত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ উভয় বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত সকলের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনানীর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন’ (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসির ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমান প্রতিহত করার মহড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে ড্রোন (UAV)-এর লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সফল সেনা অবতরণ অবলোকন করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত ড্রোন, কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএল (VTOL) প্রদর্শন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের সফল উড্ডয়ন প্রত্যক্ষ করেন। নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরি বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও প্রতিরক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM