রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ১১:৫৪:০৫

নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

এস. এম. আরিফুজ্জামান, নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫
শেয়ার: mail
নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শহীদ জিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্যরা গত ১০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সহকারী অধ্যাপক (আইসিটি) মোমেনা খানমকে গভর্নিং বডির সর্বসম্মত রেজুলেশনের মাধ্যমে ৩ জন শিক্ষকের প্যানেল প্রস্তুত করে বোর্ডে পাঠানো হয় এবং বোর্ড তাঁদের মধ্য থেকে মোমেনা খানমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু দায়িত্বের ৬ মাস অতিক্রম হতেই গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে কোনো মিটিং বা রেজুলেশন ছাড়াই পূর্বের শিক্ষক প্যানেলের নথি বোর্ডে পাঠিয়ে সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে মোমেনা খানমের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য বিদ্যোৎসাহী সদস্যসহ (ভিসি মনোনীত) মোট ৬ জন অভিভাবক সদস্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী, কলেজের অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য উপাধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির প্রস্তাবক্রমে ৩ জনের একটি প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণের নিয়ম রয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর সংশ্লিষ্ট কলেজের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্যানেলভুক্ত ৩ জনের মধ্য থেকে তাঁর বিবেচনায় উপযুক্ত যে কাউকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেবেন।

সেই অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ারি নাজিরপুর শহীদ জিয়া কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান বালী স্বাক্ষরিত ৩ জনের একটি শিক্ষক প্যানেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ও ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদিত ১১১১১ নম্বর স্মারকে মোমেনা খানমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চিঠি পাওয়ার পর কলেজের গভর্নিং বডি মিটিং ও রেজুলেশন করে মোমেনা খানমকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে। কিন্তু তাঁর দায়িত্ব পালনের ৬ মাসের মাথায় গত ৬ আগস্ট ১৪৫০০ নম্বর স্মারকে আরেকটি চিঠির মাধ্যমে মো. সিদ্দিকুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ব্যাপারে কলেজ গভর্নিং বডির কোনো মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে কোনো শিক্ষক প্যানেলও পাঠানো হয়নি।’

কলেজের নির্বাচিত ছাত্র অভিভাবক মাহবুব খান বলেন, ‘এই কলেজে আমরা জায়গা দিয়েছি। আমি নির্বাচিত ছাত্র অভিভাবক সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করি সুষ্ঠু সমাধান পাব।’

অব্যাহতি পাওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোমেনা খানম বলেন, ‘আমি আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। উপাচার্য মহোদয় আমাকে যোগ্য বিবেচনা করে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ দর্শানো (শোকজ) ছাড়াই আমাকে কী কারণে সরিয়ে দেওয়া হলো তা জানি না। দায়িত্ব পালনকালে ১৭ বছরের বৈষম্যের শিকার কলেজটিকে স্বমহিমায় ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এমনকি বিগত আমলে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে নাজিরপুর কলেজ করা হয়েছিল; দায়িত্ব গ্রহণের পর কলেজটির পুরনো নাম শহীদ জিয়া কলেজ ফিরিয়ে এনেছি। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দও এনেছি। আমি চক্রান্তের শিকার, তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি কাউকে সুপারিশ করিনি। প্রথম নিয়োগের সময় যে রেজুলেশন করা হয়েছিল, তখন তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেখান থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মোমেনা খানমকে বাদ দিয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে।’

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে